ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামে আমদানি শুল্ক ২৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশে উন্নীত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ ঘোষণায় পর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। শুল্ক বৃদ্ধির এ সিদ্ধান্ত চলমান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আলোচনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছে জোটটি। খবর বিবিসি।
যুক্তরাষ্ট্রের পিটসবার্গ শহরের এক জনসভায় গত শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর নতুন শুল্ক হার ৪ জুন থেকে কার্যকর হবে। এতে স্থানীয় ইস্পাত শিল্প উপকৃত হবে এবং চীনের ওপর নির্ভরতা কমে যাবে।
এর প্রতিক্রিয়ায় ইউরোপিয়ান কমিশন জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ সিদ্ধান্ত চলমান আলোচনা ব্যাহত করবে এবং ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য খরচ বাড়াবে। আলোচনার সুযোগ তৈরির জন্য এরই মধ্যে ইইউ পাল্টা শুল্ক সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করলেও যুক্তরাজ্যে নতুন শুল্কের প্রভাব পড়তে পারে। দেশটির ইস্পাত শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত তাদের জন্য আরো একটি বড় আঘাত হিসেবে দেখা দেবে।
কয়েক মাস ধরে ইউএস স্টিলের মালিকানা বদলের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। এ বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ইউএস স্টিল ও জাপানের নিপ্পন স্টিল যৌথভাবে ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে। তবে চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।’
যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত প্রায় এক-চতুর্থাংশ ইস্পাতই আমদানিনির্ভর, যার বড় একটি অংশের উৎস চীন, ভারত ও জাপান।
জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেয়ার পর ট্রাম্পের শুল্কনীতি বারবার পরিবর্তন হয়েছে, যা বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। এপ্রিলে ট্রাম্প ইইউ পণ্যে ২০ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা করেন, পরে তা কমিয়ে ১০ শতাংশ করেন।
গত সপ্তাহে তিনি জানান, ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রধান উরসুলা ফন ডের লায়েনের সঙ্গে ‘ইতিবাচক ফোনালাপ’ হওয়ায় শুল্ক কমানোর সময়সীমা ৯ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে এখন হঠাৎ করে শুল্ক দ্বিগুণের ঘোষণা সে আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।